জীবন কে উপভোগ করুন - ডাঃ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল-আরিফী °অনুবাদকের কথা পর্ব ০2

 






অনুবাদকের কথা,


দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে কয়েক বছর আগে মুফতি তকি উসমানি সাহেব বাংলাদেশে এসে এক বক্তৃতায়। বলেছিলেন :


    “দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিন, জীবন বদলে যাবে।” বস্তুত : জীবনকে বদলে দিতে হলে তথা জীবনে সুখ, শান্তি, ও কাঙিক্ষত সমৃদ্ধি। লাভ করতে হলে আমাদেরকে ইতিবাচক মনােভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে । জীবনের পথ পরিক্রমা কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এতে রয়েছে চড়াই-উৎরাই ও বাধাবিপত্তি। জীবনের এ দুর্গম পথে চলতে গিয়ে বাধা-বিপত্তির মুখােমুখি হলে আমরা সেই অবস্থাকে কিভাবে গ্রহণ করব তা নির্ভর করে আমাদের মানসিকতার উপর। যারা সব বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করেন তারা বাধাবিপত্তিকে সাফল্যের সােপান হিসেবে গ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে যারা নেতিবাচক চিন্তা করেন তাদের কাছে যে কোন বাধা-ই বিরাট প্রতিবন্ধক। তাই ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ কখনো আটকে থ্যাকে না। তারা স্থিরভাবে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যায় । ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল, নিরহঙ্কার ও দয়াপ্রবণ । তারা নিজেদের সম্পর্কে যেমন ইতিবাচক ধারণা রাখেন তেমনি অন্যদের সম্পর্কে তাদের ধারণা ইতিবাচক। তদুপরি সব কাজেই তারা ইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করেন। তবে এ ইতিবাচক মনােভাব কারাে কারাে মধ্যে সহজাত স্বভাব ও প্রবৃত্তির মতাে থাকে। তাকে বেশিরভাগ মানুষকে তা অনুশীলন করে অর্জন করতে হয়। কেননা মানুষের স্বভাব পরিবর্তনের পরিপন্থ। পরিবর্তন অস্বস্তিকর। কিন্তু এ পরিবর্তন কষ্টকর ও বিরক্তিকর হলেও এর ফলাফল খুবই মিষ্ট। দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন : “শিক্ষার শেকড় তিতা হলেও এর ফল খুবই মিষ্টি। তাই মনােভাবকে ইতিবাচক ধারায় পরিবর্তন করে কিভাবে জীবনে সুখি হওয়া যায় এ প্রশ্নের উত্তর যুগে যুগে অনেক গবেষক খুঁজে ফিরেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রচুর বই পত্র লিখিত হয়েছে। এ বিষয়ে ডেল কার্নেগির লেখা বইগুলাে ব্যাপকভাবে পঠিত ও সমাদৃত । কিন্তু তার লেখাগুলাে ওহির (ঐশী জ্ঞান)। আলােকে আলােকিত ছিল না বিধায় তা কাঙিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এমনকি ডেল কার্নেগি নিজেও তা থেকে চূড়ান্ত উপকৃত হতে পারেননি। কারণ, তিনি নিজেই আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনাবসান করেছেন।

পেজঃ  ০2


No comments

Theme images by molotovcoketail. Powered by Blogger.